কিউবী কথন

কিউবী কিছুদিন আগেও ডাবল ইউজ অফারগুলো পত্রিকায় দিত। এখন আর তা করে না, মোবাইলে এসএমএস বা ইমেইল দিয়ে জানিয়ে দেয়। সবাইকে না জানিয়ে শুধু গ্রাহককে জানালে সেটা কিভাবে মার্কেটিং হয়, বুঝলাম না! যাহোক নভেম্বরের শেষদিকে এমন একটা অফার গেল। কার্ড কিনতে গিয়ে যে বিড়ম্বনায় পড়লাম তারই সাতকাহন এই পোস্ট। ডিপার্টমেন্টের ইন্ডিয়া ট্যুর নিয়ে সারাদিন দৌড়াদৌড়িতে আছি। অন্যদিকে তাকানোর সময় নেই। একেবারে নভেম্বর মাসের শেষদিন এসে মনে পড়ল, আরে! আজকে তো শেষদিন!! ঝুটঝামেলা শেষ করে রওনা দিলাম পলাশীর দিকে। হলের কাছে এই একটা জায়গাই ভরসা। আগেই ধরে নিলাম এখানে পাব না, এলিফ্যান্ট রোডের কিউবী স্টোর পর্যন্ত যেতে হবে। যেহেতু শেষদিন সুতরাং আমার কপালের হিস্টরী বলে যে আমাকে এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার পর্যন্ত যেতেই হবে। পলাশী গিয়ে যথারীতি পেলাম না। ৪০০টাকার কার্ড আছে কিন্তু ৭০০টাকার কার্ড নাই। বলাবাহুল্য ৭০০টাকার কার্ড খুঁজছিলাম। তাও আবার কিনব দুটো, একটা আমার আরেকটা ফ্রেন্ডের। বাটা সিগন্যালের রিকশা করলাম, যদিও জানতাম না রিকশা ওই পর্যন্ত যায় না। কাঁটাবনের মোড়ে গিয়ে নামতে হল। কাঁটাবনের মোড় থেকে এলিফ্যান্ট রোডের দিকে রওনা দিলাম। রাস্তায় পড়ল সুবাস্তু আর্কেডিয়া। ভাবলাম ঢু মেরে দেখি পাওয়া যায় কিনা। শুনশান মার্কেট, আইটি মার্কেট নামক জায়গাটার বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ। আর যেগুলো খোলা আছে, দেখেই বোঝা যায় এখানে কিছু পাওয়া যায় না। এক দোকানে কিউবীর পোস্টার দেখে জিজ্ঞেস করলাম কার্ড আছে কিনা। উনি আমাকে বললেন ইউজার আইডি দিতে হবে, তাহলে উনি রিচার্জ করে দেবেন! আরে ভাই আমারটা নাহয় করলাম কিন্তু আরেকজনেরটা কি করে হবে! মিশন এবর্টেড। মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার ছাড়া আর কোন মার্কেট ঢুকব না চিন্তা করে আবার হাটা শুরু করলাম। যাহোক কার্ড কেনার সময় বললাম আপনাদের কার্ড তো কোথাও পাওয়া যায় না, যথারীতি সেই গতবাধা উত্তর, স্যার আমরা কনসার্নড ডিপার্টমেন্টে জানাব। হাহ্ তোমরা কেমন জানাও আমার জানা আছে। তার চেহারা বলছিল, কার্ড তোমার কেনা দরকার মিয়া লাগলে চট্টগ্রাম গিয়া কিনবা!! যাহোক আবার অর্ধেক রাস্তা হেঁটে তারপর রিকশা নিয়ে হলে ফিরলাম। ৭০০ টাকার কার্ড কিনতে আরো ৫০টাকা খরচ আর বিড়ম্বনার কথা বাদই দিলাম। এসব কে কেয়ার করে!! যারা ব্যবহার করে তারা নিজের গরজেই করে। সুতরাং ভালো সার্ভিস দেয়ার চিন্তাভাবনা এদেশের টেলিকম সেক্টরের কারোরই নেই। বিটিআরসি শুধু নামে না হয়ে চরিত্রে সায়ত্বশাষিত হওয়া পর্যন্ত কোন লাভ হবে না। আর যেহেতু চরিত্রে পরিবর্তন হবার কোন সম্ভাবনা নেই, খুব তাড়াতাড়ি গ্রাহকদের বিড়ম্বনা কমারও কোন সম্ভাবনা নেই।

জোসিলা ১৮+

চলছে মেয়েদের ব্রেস্ট স্ট্রোক সাঁতার প্রতিযোগিতা। সবার সাথে এক বিশালবক্ষা তরুণীও উপস্হিত। সাঁতার শুরু হলে যা হয়, সবাই ঝাপিয়ে পড়েছে পুলে। যথারীতি কিছুক্ষণের মাঝেই সবাই গিয়ে চলে এসেছে। শুধু বিশালবক্ষা তরুণী ডুবে আর ভেসে ভেসে অনেক কষ্টে সাঁতরিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। বাকি প্রতিযোগীরা সাঁতার শেষ করে তোয়ালে দিয়ে পানি শুকিয়ে নিচ্ছে আর তরুণীটি সাঁতরিয়েই যাচ্ছে।

বলা বাহুল্য টিভি ক্যামেরা নিয়ে সাংবাদিকরা চলে এসেছে। সাংবাদিক থেকে শুরু করে সবার মাঝে আগ্রহ এত সময় লাগার কারণ কি তা জানা। তা তরুণীর প্রায় ৪৫ মিনিট লাগলো সাঁতার কেটে ঘুরে আসতে। সাংবাদিকেরা খুব আগ্রহ নিয়ে তার দিকে মাইক্রোফোন বাড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলো, মিস, ব্রেস্ট স্ট্রোক সাঁতারের এই আইটেমে প্রথম প্রতিযোগী মাত্র তিন মিনিটে সাঁতার শেষ করেছেন। আপনার এত সময় লাগার কারণ কি?

তরুণী হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দিল, আমি সে রকম মেয়ে না যে হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চিটিং এর অভিযোগ আনব। তবে আমি নিশ্চিত আমি বাদে বাকি সবাই সাঁতারের সময় হাত ব্যবহার করেছে।

ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগ টিউটোরিয়াল

আজকের দুনিয়ায় ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগই সব। বাস্তবে আপনার কোন ফ্রেন্ডো থাক বা না থাক, সামাজিক যোগাযোগের দুনিয়ায় শখানেক ফ্রেন্ডো থাকা রীতিমত স্ট্যাটাসের পর্যায়ে পড়ে। যারা জিন্দেগীতে ইন্টারনেটের ছায়াও মাড়ান না তাদেরও এখন দেখা যায় কথায় কথায় স্ট্যাটাস আপডেট করতে। আর এই সামাজিক যোগাযোগ করতে গিয়ে সবচেয়ে ঝামেলায় পড়েন যাদের ভার্চুয়াল দুনিয়াতে ফ্রেন্ডোর সংখ্যা নিতান্ত কম। তাই তারা নানাভাবে আউটসোর্সিংয়ের চেষ্টা করেন। এই যেমন অপরিচিত ফ্রেন্ডো যোগাড় করার চেষ্টা (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়ে ফ্রেন্ডো) করেন। তবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় সেই চেষ্টা সফল হয় না বললেই চলে। তাদের জন্যই এই অধমের সামাজিক যোগাযোগ টিউটোইয়াল লেখার অপচেষ্টা। তবে এটা শুধু ছেলেদের জন্য প্রযোজ্য। আমার মনে হয় না আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থা এখনো এত খারাপ যে মেয়েদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের টিউটোরিয়াল লিখতে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন