ডিবিবিএল ভার্চুয়াল কার্ডের আদ্যোপান্ত (A to Z of DBBL Virtual Card)

উচ্চশিক্ষার নানা কাজে টোফেল, জিআরই কিংবা ভার্সিটির এপলিকেশন ফি জমা দিতে ইন্টারন্যাশনাল (ভিসা বা মাস্টার কার্ড) ক্রেডিট কার্ড লাগবেই। আর ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড করার ঝামেলা আর খরচও কম নয়। এজন্য আদর্শ বিকল্প হল ডাচ বাংলা ব্যাংক (ডিবিবিএল) এর ভার্চুয়াল কার্ড। কম খরচ আর কম ঝক্কি-ঝামেলায় অনেকটা ডেবিট কার্ডের মতই ব্যবহার করা যায় এ কার্ডটি। ভার্চুয়াল কার্ড করতে আর ব্যবহার করতে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়েছি নানা তথ্য না জানা থাকার কারণে। তাই মনে হল বিস্তারিত লিখে ফেলা যাক।

ভার্চুয়াল কার্ড কি?

ভার্চুয়াল কার্ড হচ্ছে এক ধরণের ক্রেডিট কার্ড। সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের যা থাকে: একাউন্ট নাম্বার, সিকিউরিটি কোড, এক্সপায়েরি ডেট সবই এর থাকে। তবে ক্রেডিট কার্ডের সাথে এর পার্থক্য হল আসলে এটি কোন কার্ড নয়, একটা কাগজ মাত্র। তাছাড়া এটি প্রিপেইড। অর্থাৎ ডলারের সমপরিমাণ টাকা জমা দিলে তা ওই একাউন্টে জমা হয়ে যাবে যেটি দিয়ে ফি পরিশোধ করা যায়।

 ভার্চুয়াল কার্ড দেখতে যেমন

ভার্চুয়াল কার্ড দেখতে যেমন

কিভাবে করতে হয়?

ঢাকায় ডিবিবিএল এর যেকোন ব্রাঞ্চে ভার্চুয়াল কার্ড করা যায়। তবে অনেক সময়ই ব্রাঞ্চে ভার্চুয়াল কার্ড থাকে না, তাই দরকারের কয়েকদিন আগে যাওয়াই ভাল। প্রতি  ব্রাঞ্চেই ভার্চুয়াল কার্ডের দায়িত্বে একজন অফিসার থাকে, তিনিই কার্ড ইস্যু করে দিবেন।

যা যা লাগে…

১. পাসপোর্ট সাইজ ছবি (১টি বা ২টি)

২. ন্যাশনাল আইডি

৩. পাসপোর্ট

৪. ভার্সিটির আইডি কার্ড/ বিদ্যুৎ বিলের কপি

৫. ওই ব্রাঞ্চে ডিবিবিএলের একাউন্ট। (আগে যেকোন ব্রাঞ্চে থাকলেই হত। ইদানীং ওই ব্রাঞ্চেই লাগে। তবে নিয়মগুলো একটু হলেও এদিক সেদিক করে। এটা মূলত এক্সিকিউটিভ এর উপর নির্ভর করে।)

এসব কাগজপত্রের সাথে ভার্চুয়াল কার্ডের এপ্লিকেশন ফর্ম আর সিআইসি (CIC) ফর্ম পূরণ করলেই ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করে দেবে। কার্ড ইস্যু করার জন্য আলাদা কোন চার্জ নেই।

রিচার্জ করতে যা লাগে…

রিচার্জ করতে যে পেজে ডলারের এমাউন্ট থাকে সেটার প্রিন্টআউট লাগে। প্রিন্টআউটে অথরিটির নাম(যেমন: ভার্সিটি কিংবা ETS)/লোগো থাকা ভাল। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট/ ন্যাশনাল আইডি’র কপি লাগে, সুতরাং এটাও সাথে রাখা ভাল।

কত ডলারের জন্য কত টাকা জমা দিতে হয়?

আগেই বলেছি কার্ড ইস্যু করার জন্য কোন টাকা লাগে না। তবে প্রতিবার রিচার্জে ১০০ টাকা করে চার্জ দিতে হয়। সব ফি একসাথে জমা করে দিলে বাড়তি খরচ ওই ১০০টাকাই। এখন দেখা যাক কত ডলারের জন্য কত টাকা রিচার্জ করতে হয়। তবে এটা বোঝার আগে বুঝতে হবে টাকাটা তারা জমা করে কিভাবে।

ধরা যাক কোন ভার্সিটির ফি বাবাদ ১০০$ জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সেদিনের ডলারের যে রেট তার চেয়ে কিছু বেশী দিয়ে গুণ করে সে পরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে। ধরা যাক সেদিনের ডলারের রেট ৭৯.২০ টাকা। সেক্ষেত্রে জমা দিতে হবে ১০০ × ৮০ = ৮০০০টাকা + ১০০ টাকা চার্জ = ৮১০০ টাকা। কিছু টাকা বেশী দিতে হয় কারণ ডলার কার্ডে জমা করা হয় বিকেলের দিকে। ডলারের দাম সবসময়ই উঠা নামা করে। কোন কারণে ডলারের দাম বেড়ে গেলে তখন ১০০$ এর চেয়ে কম জমা হবে। তাহলে ফি পে করা যাবে না। যদি ডলার জমা হবার সময়ই রেট ৭৯.২০টাকাই থাকে তাহলে কার্ডে জমা হবে ৮০০০ ÷ ৭৯.২০ = ১০১.০১$ ।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ থাকা যায় যদি মোট টাকাকে ১.০৫ দিয়ে গুণ করা হয় অর্থাৎ (১০০ × ৮০) × ১.০৫ = ৮৪০০ + ১০০টাকা চার্জ দিলে। কারণ ধরে নেয়া হয় একদিনে ডলারের রেট ৫% এর বেশী উঠা নামা করবে না। তবে এটা এক দুবারের বেশী করার দরকার নেই। কারণ দু-একবার রিচার্জ করলে কার্ডে এমনিতেই ৪-৫ তবে এটা এক দুবারের বেশী করার দরকার নেই। কারণ দু-একবার রিচার্জ করলে কার্ডে এমনিতেই ৪-৫$ থেকে যায়। সুতরাং ডলারের দাম উঠানামা করলেও সমস্যা হয় না। আর সব কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা ডিবিবিএল একাউন্টে রিফান্ড করা যায়, সুতরাং ডলার বাড়তি থাকলেও সমস্যা নেই।

যেভাবে জমা করতে হয়…

ভার্চুয়াল কার্ডের স্লিপে টাকার এমাউন্ট আর অন্যান্য তথ্য লিখে পূরণ করতে হবে। তারপর প্রিন্টআউট ভার্চুয়াল কার্ডের অফিসারের কাছ থেকে ভেরিফাই করে টাকা জমা দিলেই কাজ শেষ। সেদিন রাত ৮টার মাঝেই টাকা জমা হয়ে যায়।

যদিও পড়ে কাজটা অনেক জটিল মনে হয়, আসলে কাজটা অতটা জটিল না। ইন্টারন্যাশনাল কার্ড ম্যানেজ করা অনেক মুশকিল আর তাছাড়া কার্ডওয়ালা কারো পেছনে ঘুরে করার চেয়ে নিজের কার্ডে খেয়াল খুশি মতো রিচার্জ করে ফি দেয়ার চেয়ে বড় সুবিধা আর কি হতে পারে? 🙂

যেভাবে টাকা রিফান্ড করতে হয়…

এডমিশন হয়ে যাবার পর নিশ্চয়ই আমরা চাইব কার্ড ক্লোজ করে কার্ডে থাকা ডলার রিফান্ড করতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ডিবিবিএল এর কর্মকর্তারা কার্ড ক্লোজ করবার পদ্ধতি জানে না, কিংবা আসলে নাই। তবে ব্রাঞ্চে গেলে কার্ডের দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভকে অনুরোধ করলে তিনি একটা এপ্লিকেশন ফর্ম প্রিন্ট করে দেবেন। সেটা পূরণ করে দিলে সপ্তাহ দুয়েকের মাঝে ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে ডিবিবিএল একাউন্টে জমা হয়ে যাবে।

Advertisements

12 thoughts on “ডিবিবিএল ভার্চুয়াল কার্ডের আদ্যোপান্ত (A to Z of DBBL Virtual Card)

  1. আপনার এই ডকুমেন্ট টা আমাদের ওয়েবসাইট এ দিতে চাই। অবশ্যই আপনাকে Courtesy করে দেয়া হবে। যদি আপত্তি না থাকে তবে জানাবেন।

    ধন্যবাদ।

  2. DBBL ছাড়া কি অন্য কোন আর ব্যাংক থেকে virtual card করা যাবে? করা গেলে মেহেরবানী করে জানাবেন আর কোন কোন ব্যাংক থেকে করা যায়।

    • সেটা ডিবিবিএলের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে জেনে নিন। অার এডুকেশন রিলেটেড সাইট হলে সাধারণত করা যায়। ফোন করে বললেই গেটওয়ে ওপেন করে দেয়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s